যশোর প্রতিনিধি
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। ২০২০ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটারে কাজ হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। মূলত জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থমকে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় ৪৭.৪৮ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং সময়সীমা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার, চারটি সেতু, ৫৫টি কালভার্ট, পাঁচটি ভেহিকুলার ওভারপাস, আটটি পেডেস্ট্রিয়ান ওভারপাস এবং একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের কথা রয়েছে। স্মার্ট হাইওয়ের অংশ হিসেবে থাকছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম (ITS) ও অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন।
তিনটি লটে বিভক্ত এই প্রকল্পে যশোর অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে কাজের দায়িত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় লটে কালীগঞ্জের মাহাতাব উদ্দিন কলেজ থেকে যশোরের মুরাদগড় পর্যন্ত এবং তৃতীয় লটে মুরাদগড় থেকে চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ অন্তর্ভুক্ত। তবে ৫ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ, যা প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নকিবুল বারী বলেন, “প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ডিজাইন ও ঠিকাদার নিয়োগে সাড়ে তিন বছর লেগেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ। যশোর অংশে ৫৩ একর জমি অধিগ্রহণে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে, আরও ৭ একর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে। আশা করছি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারব।”
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার জানান, “ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। এবার মৌজা মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হবে এবং জমি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে, উন্নয়ন কাজ বিলম্বে মহাসড়কটি বর্তমানে চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়ক বর্ষায় আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তদারকি সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, মহাসড়কটি উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তান্তর করায় তাদের আর উন্নয়ন কাজ করার সুযোগ নেই। ফলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তরফে ‘জোড়াতালি’ দিয়েই চলাচলযোগ্য রাখার চেষ্টা চলছে।
প্রকৌশলী নকিবুল বারী আরও বলেন, “প্রকল্প এলাকার দুই পাশে জমি অধিগ্রহণ ও সম্প্রসারণ ছাড়া মূল সড়কের কাজ শুরু করা যাবে না। আগে বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করে তারপরই মূল কাজ শুরু করা হবে।”
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে। ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ এবং বাড়বে প্রকল্প ব্যয়ও।

