ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা হাসপাতাল—উপজেলা ও আশেপাশের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জন রোগী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, কিন্তু হাসপাতালটি চলছে চরম জনবল সংকটের মধ্যে। যেখানে ২১ জন চিকিৎসকের থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। চিকিৎসক সংকট ছাড়াও রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, যেমন—সুইপার, নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদার ইত্যাদির তীব্র ঘাটতি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না।
তবুও রোগী ও এলাকাবাসীর মতে, হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান সন্তোষজনক। তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত ওষুধ, খাবার সরবরাহ করা হয় এবং হাসপাতাল চত্বর পরিচ্ছন্ন থাকে। রোগীরা হাসপাতালের প্রধান সহকারী ও অন্যান্য স্টাফদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।
হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ বিরতি বিশ্বাস বলেন, “রোগী আসলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যেন সে ভালো সেবা পায়।”
প্রধান সহকারী হাবিবুর রহমান জানান, “ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদ হাসান নিয়মিতভাবে খোঁজখবর নেন এবং নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, যার ফলে আমরা কাজ করতে উৎসাহ পাই।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নেওয়াজ মোস্তাফিজ চৌধুরী বলেন, “আমরা সব সময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি। তবে জনবল সংকট কেটে গেলে রোগীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতালটি। জনবল ও কাঠামোগত সহায়তা পেলে এটি হয়ে উঠতে পারে একটি মডেল স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যা এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

