কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের বেলবানা চরাঞ্চলে (চরবেলবানা) মধুমতি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এখানকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে অসন্তোষ ও ভুক্তভোগীদের আকুতি
বন্যাদুর্গতদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিলেও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং আশ্রয়ের অভাবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
ভুক্তভোগী চরবেলবানা গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি। এখন আমাদের ঘরবাড়ি সব ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের অভাবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী রেক্সোনা বেগম জানান, এই বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছি। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত আমাদের পাশে দাঁড়ান।
বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফ হারুন আর রশিদ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমি প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই, যেন তারা জরুরি ভিত্তিতে আরও বেশি ত্রাণ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, “আমরা দুর্গত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তালিকা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করব
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আরও ত্রাণসামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন মধুমতি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

