আবদুল জলিল, সিরাজগঞ্জ
সরকারি বরাদ্দকৃত স্বল্পমূল্যের আটা কিনতে কাজিপুরে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে সীমিত বরাদ্দের কারণে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মেঘাই পুরাতন বাজারের ডিলার পয়েন্টে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুই বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে সকিনা বেগম ও কাঞ্চন রানী বালা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড রোদ আর ভিড় সামলাতে না পেরে অবশেষে খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন তারা।
কাঞ্চন রানী বালা জানান, স্বামী জ্বরে আক্রান্ত থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তাই কম দামে আটা কিনতে আসেন। সকিনা বেগম বলেন, ভ্যানচালক স্বামী সারাদিন কাজ করেন, তাই নিজেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু এত ভিড়ে আটা পাননি।
প্রতিদিন আলমপুর চৌরাস্তা ও মেঘাই পুরাতন বাজারে দুই ডিলারের মাধ্যমে ৫০০ কেজি করে আটা বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা নিতে পারলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় প্রায়ই মানুষ খালি হাতে ফিরছেন। ডিলার জালাল উদ্দিন বলেন, “সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে আমরা তাই বিতরণ করছি। বরাদ্দ বাড়ালে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতো।”
লাইনে দাঁড়ানো সত্তরোর্ধ্ব সেফাত আলী বলেন, “যমুনা নদীতে তিনবার ঘরবাড়ি গেছে। কম দামে আটা পাইলে আমাগো অনেক সুবিধা হইতো। সরকার যদি বরাদ্দ বাড়াইতো তাইলে ভালো হইতো।”
কাজিপুর উপজেলা গুদাম কর্মকর্তা অলিউর রহমান জানান, বর্তমানে প্রতিদিন এক টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “কাজিপুর নদী শিকস্তি এলাকা। এখানে বরাদ্দ বাড়ানো গেলে নিম্ন আয়ের মানুষ আরও বেশি উপকৃত হতো।”

