নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে ফেমাস কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে সোমবার মারা যান ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ।
নিহত নুরুল হুদা ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ও টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের কর্মরত ফায়ার ফাইটার ছিলেন। তার পিতার নাম মৃত রবিউল হুদা। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ তিনি ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি বিবাহিত, তার দুই সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী।
গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী বিসিক নতুন বাজার রেলগেইট (সাহারা মার্কেট) এলাকায় কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা ও চার ফায়ার ফাইটারসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে বর্তমানে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে হালকা ধোঁয়া দেখা গেলেও কিছুক্ষণ পর গুদামে থাকা রাসায়নিক ড্রামে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে উত্তরা ও কুর্মিটোলা থেকে আরও চারটি ইউনিট এসে সহায়তা করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-০৩ এর উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মন্নান বলেন, “আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। দুইজন সহকর্মীকে হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বাকি দগ্ধ সদস্যদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও জানান, গুদামে কী ধরনের রাসায়নিক ছিল এবং আগুনের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে, তা তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সহকর্মী, নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, কেমিক্যাল গুদামগুলো নিয়ন্ত্রণে যথাযথ তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

