মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সরকারি সফর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আপ্যায়নের খরচের কথা বলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ক্লাস্টার কার্যক্রম পরিচালনার নামেও প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পিটিআই স্কুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের উপস্থিতিতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও এফএলএল (FLL) কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর উপজেলার প্রায় ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অংশ নেন।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সচিবের আপ্যায়নের জন্য প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়েছে। কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, চিতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ এবং বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুল হক শিকদারের নেতৃত্বে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, “সচিবের এটি সরকারি সফর। সরকারি সফরের ব্যয় সরকারি তহবিল থেকেই হওয়ার কথা। সেখানে শিক্ষকদের কাছ থেকে আপ্যায়নের খরচ নেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
আরেক শিক্ষক বলেন, “চাকরির নিরাপত্তার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কিন্তু সরকারি সভার ব্যয় শিক্ষকদের বহন করতে হবে কেন, তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।”
শুধু সচিবের সফর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ক্লাস্টার কার্যক্রম পরিচালনার নামেও প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও একজন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এক হাজার, কোথাও দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। একটি ক্লাস্টারে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে সদর, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে চিতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সচিবের আপ্যায়ন, ঢাকায় শিক্ষা মেলা এবং একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিদায় অনুষ্ঠানের ব্যয় মেটাতে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অর্থ তোলা হয়েছে। ছয়টি ক্লাস্টারের মোট ১২ জন প্রধান শিক্ষক এ দায়িত্ব পালন করছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “সচিব মহোদয় বাড়ি থেকে নাস্তা করে এসেছেন। এ ধরনের কোনো চাঁদা তোলার বিষয়ে আমি অবগত নই। ক্লাস্টারের অর্থ সংগ্রহের বিষয়েও আমার জানা নেই।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উল্লাহ বলেন, “এটি সরকারি সফর। চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমার কোনো তথ্য জানা নেই।”
ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সরকারি সফর ও সরকারি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সচেতন মহল।

