আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী উপজেলায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসমান মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৭ দিন পর মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পুলিশ ও মামলার সূত্র জানায়, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের শানু মোল্লার ছেলে ওসমান মোল্লা গত ২৫ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে নিজ ঘরে ঘুমন্ত মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মেয়েটির চিৎকারে মা এগিয়ে এলে ওসমান তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরলে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মেয়ের মা মঙ্গলবার দুপুরে আমতলী থানায় ওসমান মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতা মেয়েটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, তার বাবা আগেও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছে। লজ্জায় ও ভয়ে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। সে এ ঘটনার বিচার চায়।
মেয়ের মা বলেন, “আমার মেয়েকে তার বাবা আগেও মারধরের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু লজ্জায় মেয়ে কাউকে বলেনি। বিয়ে দিতে হবে, সমাজে মুখ দেখাতে পারব না—এসব চিন্তা করে মামলা দেরিতে করা হয়েছে। তাকে আটকানোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আজ বাড়িতে আসায় আটক করে পুলিশে দিয়েছি। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, “মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা ওসমান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষিতা মেয়েকে বুধবার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে।

