নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “আঞ্চলিক শ্রম ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটি”র গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ বার্তা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “আসন্ন ঈদে শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি কারখানাকে প্রচলিত শ্রম আইন মেনে সময়মতো শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা সহ্য করা হবে না।”
বিশেষ করে সাব-কন্ট্রাক্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব কারখানাকে সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে পরিচালিত হতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় শ্রমিকদের ঈদকালীন ছুটি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি না হয়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতারা সভায় শিল্পাঞ্চলের চলমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মালিক, শ্রমিক ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যেকোনো শ্রম অসন্তোষ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, জিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলামসহ জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ-২, হাইওয়ে পুলিশ, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং ডাইফ (DIFE)-এর প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও বিজিএমইএ (BGMEA), বিকেএমইএ (BKMEA), বিটিএমএ (BTMA), বিএপিআই এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কারখানা মালিক প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, শিল্পনগরী গাজীপুরে ঈদের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিষাদে রূপ না নেয়, সেজন্য প্রশাসন এখন থেকেই সক্রিয় ও সতর্ক ভূমিকা পালন করছে।

