গোয়ালন্দ ও ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় এক নারী ও তার তিন বছরের শিশুকন্যাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক মো. উজ্জ্বল খানের বিরুদ্ধে। আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আটক উজ্জ্বল খান (৩৮) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খানের ছেলে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, নিহত জাহানারা বেগমের বাবা মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার মোল্লা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে ১৬ মে উজ্জ্বলকে আটক করেন। হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিতে ব্যবহৃত কোদালও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জাহানারা বেগম (৩০) ও উজ্জ্বল রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ওই সম্পর্কের একপর্যায়ে জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
গত ৪ মে উজ্জ্বল মোবাইল ফোনে জাহানারাকে জামতলা বাজারে আসতে বলেন। বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার তিন বছরের মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে সেখানে যান। পরে উজ্জ্বল তাদের ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যান।
সেখানে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উজ্জ্বল জাহানারার বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় শিশু সামিয়া কান্না শুরু করলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
পরে উজ্জ্বল নিজের বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটিচাপা দেন এবং স্থানটি কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের মো. লালন মোল্লার মেয়ে এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী। শিশু সামিয়া ছিল আমজাদ-জাহানারা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহতের বাবা লালন মোল্লা তার মেয়ে ও নাতনির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এসময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে বিকেলে নিখোঁজের ১১ দিন পর ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

