যশোর প্রতিনিধি
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজার সংলগ্ন ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে কাঠ ও বাঁশের তৈরি একটি জরাজীর্ণ অস্থায়ী সেতুই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে অস্থায়ী এই কাঠের সেতু। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলার সংযোগস্থলে ভৈরব নদীর ওপর ৭২ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ কাজ ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড ও শামীম চাকলাদার (জেভি)। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে ২০২২ সালের প্রথম দিকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ছাতিয়ানতলা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু পার হয়ে যাতায়াত করছে।
এছাড়া ছাতিয়ানতলা হাটে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় কৃষকদের বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয় হচ্ছে। জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য যশোর শহরে নিতে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সেতুটি চালু হলে যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

