আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। কবে মাংস খেয়েছেন, তা আর মনে করতে পারেন না তিনি। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত এই গৃহবধূর চিকিৎসার খরচ জোগাতেই এখন সর্বস্বান্ত তার পরিবার। স্বামী জামাল হাওলাদার, পেশায় জেলে—মাছ ধরে কোনোভাবে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে এখন সহায়-সম্বল প্রায় সবই বিক্রি হয়ে গেছে।
বর্তমানে পরিবারের সবচেয়ে বড় চিন্তা দৈনন্দিন খাবার ও ওষুধের খরচ। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয় জাহানারার জন্য। অনেক সময় সংসারে দুপুরের খাবার জোটে না। নিজেদের ধরা মাছও বিক্রি করে দিতে হয় খরচ চালাতে।
অভাবের এই সংসারে শেষ কবে মাংস খেয়েছেন—এ প্রশ্ন শুনে জাহানারা বেগমের চোখ ছলছল করে ওঠে। তিনি কিছুই মনে করতে পারেন না।
সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে কোরবানির ২ কেজি মাংস পেয়ে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পায়। মাংস হাতে পেয়ে জাহানারা দ্রুত রান্নার প্রস্তুতি নেন। তবে রান্না শেষ হওয়ার আগেই ছোট ছেলে মায়ের কাছে বারবার ছুটে আসে। ছেলের আগ্রহ দেখে মা তাকে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন।
সন্তানের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখে কিছু সময়ের জন্য নিজের অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও কষ্ট ভুলে যান জাহানারা। তার চোখে তখন ছিল মমতা আর মুখে সাময়িক প্রশান্তির ছাপ।
দারিদ্র্য ও রোগের কঠিন বাস্তবতায় জাহানারার এই জীবনসংগ্রাম যেন এক নীরব কান্নার গল্প হয়ে রয়ে গেছে।

