জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ড. আমির হোসেন যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. মো. আমির হোসেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট সমাজসেবী মো. দবির উদ্দিন এবং মাতা আনোয়ারা বেগম। তিনি ২০০৩ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
ড. আমির হোসেন ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্য ইউনিভার্সিটি অব সুয়নে কোরিয়ান রিসার্চ ফাউন্ডেশন (KRF) ফেলো হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরেন প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষণায় তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০টি। এছাড়া ৩৩টি কনফারেন্স প্রসিডিংস প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা ও একাডেমিক তত্ত্বাবধানে ড. আমির হোসেন ২৫টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ৩৪ জন এমএস এবং ছয়জন পিএইচডি গবেষক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে আরও ১১ জন শিক্ষার্থী তাঁর তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছেন।
শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, জাতীয় বীজ বোর্ডের সদস্য এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মুহাম্মদ হোসেন কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগে জাবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

