ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা দুইটি বালুভর্তি ট্রলার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের লাটিয়ামারি ঘাট ও ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝপথে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর এবং রাজিবপুর ইউনিয়নের চর রামমোহন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বালুভর্তি দুইটি ট্রলার জব্দ করা হয়। প্রথমে দুইজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর জব্দকৃত ট্রলার দুটি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পথে বালু উত্তোলনকারীদের একটি সংঘবদ্ধ দল ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াদুদ জামান মানিক বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে নিরাপত্তার স্বার্থে জব্দকৃত ট্রলার দুটি তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে নেওয়ার আগেই এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য, কনস্টেবল বিমল চন্দ্র পাল এবং গ্রাম পুলিশ উজ্জ্বল ও ফজলুর উপস্থিতিতে ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
রাজিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন জানান, অভিযানের সময় ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একটি ট্রলার মাঝনদীতে প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। পরে লাটিয়ামারি ঘাটে রাখা অপর ট্রলারটিও নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় এএসআই জীবন চন্দ্র বৈশ্য ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মোশাররফ বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে থানা পুলিশের একটি দল অংশ নিয়েছিল। জব্দকৃত ট্রলার দুটি স্থানীয়ভাবে একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরে ট্রলারের মালিকপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ট্রলার দুটি নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

