গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক দুটির বিভিন্ন অংশ কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গৌরনদী পৌরসভার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির অধিকাংশ স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। পাশাপাশি এসব এলাকার বাসিন্দাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
একই চিত্র উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শৌলকর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিরও। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কাদাপানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
সড়ক দুটির দুরবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন দুই এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। সড়কে জমে থাকা কাদামাটিতে ধানের চারা রোপণ করে তারা একটি ভিডিও ধারণ করেন। এর মাধ্যমে প্রতীকীভাবে তারা বোঝাতে চেয়েছেন—চলাচলের রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই, পরিণত হয়েছে ধানক্ষেতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, আমরা সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘বৃষ্টি কমার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠানো হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

