মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রায় তিন যুগ ধরে দিনাজপুরের বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট ও মাঠের পাশে একটি ছোট ভ্যানে করে চটপটি ও মাখা বিক্রি করতেন ষাটোর্ধ্ব গয়া কাকা। তাঁর হাতে তৈরি চটপটির স্বাদ অনেক শিক্ষার্থী আজও ভুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে সেই গয়া কাকা চরম অসহায়। চটপটি বিক্রির ভ্যানটি অচল হয়ে পড়েছে, সামনের চাকা রিং ও সুতার সাহায্যে কোনও রকমে বেঁধে চালানো হয়—এই দৃষ্টান্তই যেন তাঁর সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি।
গাড়ির বডি ও চাকা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামত করতে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা তার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।
গয়া কাকা বলেন,গাড়িটা ঠিক হলে আবার কাজ করতে পারব। ছেলে আর আমার উপার্জনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু ভালোভাবে খেতে পারতাম।
বর্তমানে ছেলের ভ্যানে করে কোনো রকমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য দৈনিক ২৫০-৩০০ টাকার আয় যথেষ্ট নয়। বড় ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে।
বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ইতিমধ্যে তাঁকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে। তবে এখনও বড় ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, যাতে করে গয়া কাকা আবার নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
গয়া কাকার মতো একজন আত্মসম্মানী, সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সচেতন মহল ও বিত্তবানদের মানবিক দায়িত্ব। তাঁর একটিমাত্র গাড়ির মতো তাঁর জীবনও যেন থেমে না যায় সামান্য অভাবে।

