যশোর প্রতিনিধি
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল ও বিভেদ ভুলে অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বিএনপির নেতারা। যশোর জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বে দুই উপজেলার নেতৃবৃন্দ এখন একত্রে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে তুলেছিল। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ঐক্য গড়তে মাঠে নামেন মিজানুর রহমান খান। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিএনপি এখন এক মঞ্চে কাজ করছে।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বলেন, “এক সময় যশোর-২ আসনে আত্মদ্বন্দ্ব ছিল প্রকট। এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তবে মিজানুর রহমান খানের উদ্যোগে সব বিভেদ ভুলে আমরা এখন একত্র। সব মনোনয়নপ্রত্যাশী একই মঞ্চে বসে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি।”
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়নপ্রত্যাশী ইমরান হাসান সামাদ নিপুন বলেন, “আমি নিজেও মনোনয়নপ্রত্যাশী। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সকলে তার পক্ষেই কাজ করব। কিছুদিন আগে মিজান ভাই ও চৌগাছার জহুরুল ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। সামনে আরও কর্মসূচি আছে। এখন আর কোনো দ্বন্দ্ব নেই, আমরা সবাই এক।”
এদিকে মিজানুর রহমান খান বলেন, “চৌগাছা-ঝিকরগাছায় বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে অনেক পরিশ্রম করেছি। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে মাঠে কাজ করছি। এই ঐক্য শুধু মনোনয়ন নয়, আন্দোলন-সংগ্রামে কাজে আসবে। নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো।”
তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার মানুষ আমার শ্রমের মূল্য দিয়েছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ যার, তার পক্ষে সবাই কাজ করবে—এই ঐক্যই আমাদের বড় শক্তি।”
এ ঐক্যের ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চৌগাছা-ঝিকরগাছায় বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

