নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে পরিচালিত এক অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে মাইজদী সুপার মার্কেট ও বড় মসজিদ রোড এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সকাল থেকে শুরু হওয়া তদারকি কার্যক্রমে বাজারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও কসমেটিকস দোকানে নজরদারি চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম।
অভিযান চলাকালে মাইজদী সুপার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ‘আলিফ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’-এ একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি খাবার তৈরিতে অনুমোদনহীন কেওড়া জল ব্যবহার করছিল এবং নিম্নমানের লবণ দিয়ে রান্না করছিল। এছাড়া ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার রাখার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডও লক্ষ্য করা যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বাসি ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়।
এদিকে বড় মসজিদ মার্কেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ‘জেসমিন কসমেটিকস’-এ নিষিদ্ধ রং ফর্সাকারী পাকিস্তানি ক্রিম বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে একই মার্কেটের ‘কুইন কসমেটিকস’ অভিযান টের পেয়ে অননুমোদিত পণ্য গোপনের চেষ্টা করে। পরে তল্লাশিতে এসব পণ্য উদ্ধার হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ অপরাধে দোকানটিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন প্রসাধনী, যা পরে ধ্বংস করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। যারা ভোক্তার স্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই নিয়ম মানছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই জরিমানা ও পণ্য ধ্বংসের মতো ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স টিমের সদস্যরা এবং জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল অংশগ্রহণ করে।

