যশোর প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আঙুর চাষ করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় ফল চাষি রুহুল আমিন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা তার আঙুর বাগানে এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রথম বছরেই অর্ধকোটি টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।
চৌগাছা পৌরসভার বেলেমাঠ গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। গত ৫-৬ বছর ধরে তিনি আধুনিক ফল চাষে মনোনিবেশ করেন। এর আগে কুল, পেয়ারা ও ড্রাগন চাষে সফলতা পাওয়ার পর পরীক্ষা-মূলকভাবে এক বিঘা জমিতে ‘বাইকুনার’ জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন।
রুহুল আমিন জানান, ইউটিউব দেখে তিনি আঙুর চাষে উদ্বুদ্ধ হন। রোপণের দুই বছর পর গত বছর গাছে ফল এলেও শিলাবৃষ্টির কারণে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তবে তিনি হতাশ না হয়ে আবারও নতুন উদ্যমে পরিচর্যা চালিয়ে যান। চলতি মৌসুমে তার বাগানে থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে।
তিনি বলেন, “এবার আমার বাগানে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ আঙুর উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আঙুরের পাইকারি দাম প্রায় ২৫০ টাকা। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রথম বছরেই অন্তত অর্ধকোটি টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।”
গতকাল বাগান পরিদর্শনে যান উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন। বাগান ঘুরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “রুহুল আমিন আঙুর চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। চৌগাছার মাটিতে বিদেশি ফলের সফল চাষ সম্ভব—এই বাগান তার বড় উদাহরণ। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি, যাতে কৃষকরা আরও আধুনিক ও লাভজনক ফল চাষে আগ্রহী হন।”
এদিকে রুহুল আমিনের বাগানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা ভিড় করতে শুরু করেছেন। দরদাম চূড়ান্ত হলেই আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে উঠবে চৌগাছার এই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুর।

