Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৮ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
মে ৮, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গঠিত বিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী ম্যানেজিং কমিটি ও সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক বিদ্যালয়টিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় একসময় এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কৃতিত্বের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক দলীয়করণ ও নানা আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

জহির উদ্দিন হারুন বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণসহ তার ঘনিষ্ঠজনরা দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে থেকে উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সর্বশেষ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম স্বপন এবং সাময়িক বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেকের যোগসাজশে বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত কমিটির সময় এক মাসে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল তিন লাখ টাকা পর্যন্ত এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয়েরও কোনো স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জহির উদ্দিন হারুন অভিযোগ করেন, বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে বিকেল ৩টার পর বিদ্যালয়ে আসতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির পছন্দের লোকজন নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকতেন। ভর্তি বাণিজ্য, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বেতন বঞ্চিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বর্তমান পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, আগে যেখানে বিদ্যুৎ বিল লাখ টাকায় পৌঁছাত, এখন তা কমে প্রায় ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। বর্তমানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিক্ষকরা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান কমিটি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বরকত উল্লা বুলু ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “মিথ্যা ও ধোঁয়াশাপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে কয়েকজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ এবং সিরাজুল ইসলাম স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার সামনে ফাইলপত্র উপস্থাপন করা হলে দেখে আমি কথা বলব।”

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মোখলেছুর রহমান ছুট্টি, শিক্ষক প্রতিনিধি আবদুল আউয়াল, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।