Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৮ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ড্রেজিংয়ের মাটিতে বদলে যাচ্ছে হাওড়ের চিত্র

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
মে ৮, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ড্রেজিংয়ের মাটিতে বদলে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের চিত্র। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নদী খননের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকা। এতে কৃষক ও গবাদিপশুর জন্য তৈরি হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল, পাশাপাশি কয়েকগুণ বেড়েছে জমির মূল্যও।

হাওড় অঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংকৃত মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন নিচু ডোবা ও জলাবদ্ধ স্থান ভরাটের মাধ্যমে তিন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমি উন্নয়ন হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক ও হাওড়বাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

“বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউতরা, বৌলাই, শ্রীগাং নদীর অংশবিশেষ এবং ইটনা উপজেলার ধনু নদী, নামাকুড়া নদী ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর অংশবিশেষের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার” প্রকল্পের আওতায় নামাকুড়া, বৌলাই, শ্রীগাং ও ধলেশ্বরী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে তিন উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ভরাট করা হয়েছে।

হাওড়াঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। তবে এখন ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে উঁচু করা জমিগুলো স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

ভরাটকৃত জমিগুলোতে বর্তমানে সারা বছর সবজি চাষ, খাদ্যশস্য সংরক্ষণ এবং গবাদিপশু পালনের কাজ হচ্ছে। আগে বর্ষাকালে কৃষকরা উৎপাদিত ধান মাড়াই ও সংরক্ষণ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়লেও এখন উঁচু স্থানে নিরাপদে এসব কাজ করতে পারছেন। এতে ফসলের অপচয় কমছে এবং আর্থিক ক্ষতিও হ্রাস পাচ্ছে।

এছাড়া গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব উঁচু জমি। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে আগে পশুর আশ্রয় ও চারণভূমির সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে ভরাটকৃত জমিগুলো সেই সংকট অনেকটাই দূর করেছে।

ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল কেটে এনে নিরাপদ স্থানে প্রক্রিয়াজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে তৈরি উঁচু স্থানগুলো ধান শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদী খননের ফলে সারা বছর নদীতে পানি থাকবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে জেলেদের কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

অষ্টগ্রামের বাসিন্দা সিয়াম শাহরিয়ার বলেন, “পাহাড়ি ঢলে ধলেশ্বরী নদীতে দ্রুত ভরাট হচ্ছে। কিন্তু নদীটি পর্যাপ্ত খনন করা হয়নি। প্রকল্পের বরাদ্দ ও মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে। হাওর ও কৃষকদের স্বার্থে আগের বরাদ্দ বহাল রেখে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাবের মজুমদার জানান, প্রকল্পটির কাজ আগামী জুন ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ধলেশ্বরী নদীতে পুনরায় ভরাটের বিষয়টি নজরে এসেছে। বাস্তবতা বিবেচনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।