যশোর প্রতিনিধি
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা দেশের মতো যশোরেও চলছে উৎসবের আমেজ। আর সেই উৎসবই নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে যশোর শহরের ঘোপ এলাকার প্রবীণ দর্জি মন্টু মিয়ার জীবনে। বয়স সত্তর পেরোলেও এখনো ফুটপাতে বসে সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরির বাড়তি চাহিদায় তার কর্মব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আয়ও।
যশোর শহরের এক কোণে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে ফুটপাতে বসে সেলাইয়ের কাজ করছেন মন্টু মিয়া। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা ও দক্ষতা আজও অটুট। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেউ আর্জেন্টিনার, কেউ ব্রাজিলের পতাকা তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।
মন্টু মিয়া জানান, সাধারণ সময়ে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হলেও বিশ্বকাপের সময়ে তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। অনেক দিন ২০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত পতাকা তৈরি করতে হয়। কাজের চাপ বাড়লেও এতে তিনি খুশি।
তিনি বলেন, “অন্য সময় এত কাজ থাকে না। বিশ্বকাপ এলেই পতাকার অর্ডার বাড়ে। এখন দিনভর কাজ করছি। আয়ও ভালো হচ্ছে, সংসার একটু স্বস্তিতে চলছে।”
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার। বিশেষ করে ব্রাজিলের পতাকার মাঝখানের জটিল নকশা ও নিখুঁত অ্যালাইনমেন্ট তৈরি করতে অনেক দর্জি অনীহা প্রকাশ করলেও মন্টু মিয়ার দক্ষতায় ভরসা রাখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
আর্জেন্টিনার সমর্থক পলাশ বলেন, “পুরো শহর ঘুরেও ভালোভাবে পতাকা বানানোর লোক পাইনি। পরে মন্টু মিয়ার কথা শুনে এখানে আসি। এসে দেখি অনেক ভিড়। কাজও খুব সুন্দর করেন।”
ব্রাজিল সমর্থক মেহেদী হাসান বলেন, “ব্রাজিলের পতাকার ডিজাইন ঠিকভাবে বানানো কঠিন। মন্টু কাকা খুব নিখুঁতভাবে কাজ করেন। তাই কাপড় কিনে তার কাছেই পতাকা বানিয়েছি।”
মন্টু মিয়ার বাড়তি ব্যস্ততায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। পাশের দোকানদার কবির আহমেদ বলেন, “সাধারণ সময়ে বয়সের কারণে তার কাছে তেমন কাজ আসতো না। কিন্তু বিশ্বকাপের কারণে এখন সারাদিন কাস্টমার থাকে। তার আয় বেড়েছে দেখে আমাদেরও ভালো লাগে।”
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা একসময় শেষ হয়ে যাবে। তবে এই উৎসব যে প্রবীণ দর্জি মন্টু মিয়ার জীবনে সাময়িক হলেও স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্ট। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ শেষে নয়, সারা বছরই যেন তার মুখে এমন হাসি লেগে থাকে।

