কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র রায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৮টার দিকে খুলনার গাজী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন। তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ছোট আন্ধারমানিক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
কর্মজীবনে প্রতাপ চন্দ্র রায় একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আজীবন আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় আন্ধারমানিক হাই স্কুল মাঠে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। পরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক সমাধিস্থলে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
গার্ড অব অনার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আনোয়ার হোসেন, কচুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহিদুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার দাসসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা হাজরা আসাদুল ইসলাম পান্না, যুবদল নেতা শেখ এমদাদুল হক মাসুদ, সেখ সুজন, কৃষক দল নেতা আল মামুন মুক্তি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সরদার নাহিদ, ছাত্রদল নেতা রিয়াজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

