শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরানো এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাব ও দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা দৌলতদিয়া পুড়াভিটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আশীষ চন্দ্র শীল ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর এলাকার মৃত আনন্দ চন্দ্র শীলের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একই অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল (২৪)-কে কয়েক পুরিয়া হেরোইন ও নগদ টাকাসহ আটক করা হয়। আটক করার পর তার হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হলে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা প্রশাসনের ওপর চড়াও হয়।
একপর্যায়ে ফয়সাল পালিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লাইলী বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাকে পুনরায় আটক করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও বাধার মুখে ব্যর্থ হন। পরে ফয়সাল বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ সময় হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রোববার (২১ জুন) রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রাসেল আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পলাতক ফয়সালসহ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসীর হাসান খান বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের নিয়ে পুড়াভিটা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে দুইজনকে মাদকসহ আটক করা হয়। একজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি ফয়সালকে আটক করার পর লাইলী বেগমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। শক্তিশালী এই মাদক সিন্ডিকেট নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “মামলা দায়েরের পর পলাতক ফয়সালসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আবু আব্দুল্লাহ এবং মামলার বাদী পরিদর্শক রাসেল আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলা এবং হ্যান্ডকাপ পরা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার, মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৌলতদিয়াকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।

