জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের কাজীপাড়া মহল্লায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত ৩০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে মহল্লার বিভিন্ন বাড়িতে হাঁটুপানি জমে যায়। দুপুর পর্যন্ত অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারেনি। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বাসিন্দারা জানান, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও কাজীপাড়া মহল্লায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘর তলিয়ে যায়। জমে থাকা পানি নামতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহল্লায় পৌরসভার একটি সরু ড্রেন রয়েছে। তবে ওই ড্রেনের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। মহল্লার বাসিন্দা ছফির উদ্দিন, কালাম ও আবু সাঈদের দাবি, দুই সীমানার মাঝখানে ড্রেন নির্মাণ না করে তাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। এজন্য তারা ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রজুফা বেগম বলেন, “এ সমস্যা নতুন নয়, দীর্ঘদিনের। বহুবার জানিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। ঘরে ও চুলার চারপাশে পানি জমে থাকায় রান্না করতে পারিনি। পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে আছে।”
আরেক বাসিন্দা বালা মিয়া বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে যায়। ড্রেন বন্ধ থাকলেও এর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
ফারজানা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “দিন দিন এ এলাকায় বসবাসের পরিবেশ অনুপযোগী হয়ে উঠছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘরে পানি জমে, ময়লা-আবর্জনাও পড়ে থাকে। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।”
অন্যদিকে ছফির উদ্দিন বলেন, “নকশা অনুসরণ না করে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও ড্রেন নির্মাণ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের জায়গার ওপর ড্রেন নির্মাণ করায় আমরা ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছি।”
এ বিষয়ে কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। কয়েকবার ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। আজও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনের মুখ খুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

