ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের পাছপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. হাসিম উদ্দিন (৭১) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও মাইজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সালিশের নিষ্পত্তির আগেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, খাট, আলমারি, স্যুটকেস, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা জমি বন্ধকের জন্য সংরক্ষিত ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ঘর নির্মাণের জন্য রাখা আরও ২ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলার ঘটনায় নারীসহ ৭ থেকে ৮ জন আহত হন। তাদের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী হাসিম উদ্দিন বলেন, “আমি এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা দাবি করেন, ভুক্তভোগীরা নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মাইজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসতে বলেছিলাম, কিন্তু একটি পক্ষ রাজি হয়নি। ভাঙচুরের সময় আমি সেখানে ছিলাম না। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

