কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরের দেয়ালে ‘JCD’, ‘407’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসব লেখার প্রতিবাদ জানান ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ। বিষয়টি নিয়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মামুন তাদের ‘ছাত্রলীগ’ এবং তারা মামুনকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেন বলে জানা গেছে।
এরই জেরে ৫০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে মামুনুর রশীদকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সোহাগ চৌধুরী, ফয়সাল ও আকাশ রাজবংশীর বিরুদ্ধে। এ সময় ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন মামুন।
মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, ‘JCD’সহ বিভিন্ন লেখা নিয়ে আলোচনা চলাকালে সোহাগ, ফয়সাল ও আকাশ তার কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় শনব ও মারুফও তাকে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, মামুনুর রশীদের সঙ্গে কথা বলতে তারা তার কক্ষে গিয়েছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে মামুন তাদের ধাক্কা দেন। পরে ফুলের টব ও দা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়। তবে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর দা নিয়ে হামলার অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অন্যদিকে শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদ দাবি করেন, প্রথম দফার মারামারির সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্টের কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় প্রভোস্ট কক্ষের বাইরে শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদের মারামারি হয়। এতে মারুফ আহমেদের মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর হল থেকে তাদের বিছানাপত্র বাইরে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম হলের হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেনকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট বলেন, ‘হলের দেয়ালে JCD লেখা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের নিয়ে প্রভোস্ট রুমে বসেছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষের দাবিদাওয়া মিলে না যাওয়ায় তখন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রেফার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছিলাম। এমন সময় প্রভোস্ট রুমের বাইরে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। এতে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মাথায় আঘাত পান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
প্রভোস্ট বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি বিভাগের শুভ ও হুমায়ুনকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

