আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আহত গৃহবধূ নাইমা বেগম (২২) বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নাইমা উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের মতিয়ার খন্দকারের মেয়ে। ২০২২ সালে গৈলা ইউনিয়নের পতিহার গ্রামের রুহুল মৃধার ছেলে আলামিন মৃধার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নাইমার অভিযোগ, বিয়ের ছয় মাস পর থেকেই স্বামী আলামিন যৌতুক হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তার পরিবার ওই টাকা দেয়। এরপর ইজিবাইক কেনার জন্য আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। এ নিয়ে এর আগেও প্রায় ১০ বার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাইমা বলেন, বুধবার সকালে ঘরে রান্না করার মতো চাল-তরকারি না থাকায় স্বামীকে বাজার থেকে সেগুলো আনতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আলামিন তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে লাকড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে দেবর জাকির মৃধাসহ শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাইমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিছুক্ষণ পর তার স্বামী হাসপাতালে এসে জোর করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নাইমা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারের সদস্যরা আলামিনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নাইমার মা সালমা বেগম বলেন, “যৌতুকের কারণে আমার মেয়েকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। এর আগেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একাধিকবার তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাইমার স্বামী আলামিন মৃধা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি কখনো যৌতুকের জন্য টাকা দাবি করিনি। আমার মা ও আমি প্রতিবাদ করলে নাইমা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এ কারণে আমি লাঠি দিয়ে তাকে কয়েকবার আঘাত ও থাপ্পড় দিই। এতে তার মাথা ফেটে যায়।”
এ ঘটনায় নাইমার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

