আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা ‘ল কলেজে’ প্রভাষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আরও ১০ জন আইনজীবীকে বিবাদী শ্রেণিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) সাতক্ষীরা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস শাকুরসহ ১০ জন পরীক্ষার্থী এই আবেদন দাখিল করেন।
এ বিষয়ে আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাতক্ষীরা ল কলেজে প্রভাষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তারা অংশ নেন। তবে পরীক্ষা চলাকালীন নিয়োগ বোর্ড গঠন সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড গঠনে প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন না এবং বোর্ডের কয়েকজন সদস্য আইন বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটও নন।
আবেদনকারীরা দাবি করেন, পরীক্ষায় পক্ষপাতমূলক আচরণ করে একপক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়। এরপর কলেজ অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম খান পরীক্ষা বাতিল করে ২৪ জুলাই নতুন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন।
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, ঘোষণার আগেই, ২০ জুলাই গোপনে বাতিল হওয়া পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে অধ্যক্ষের স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা, এডভোকেট ফেরদৌসি আরা লুসি সহ সাতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, বাতিলপ্রাপ্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের দিয়েই অধ্যক্ষ আদালতে মামলা করিয়ে একতরফা রায় নেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। আবেদনকারীরা বলেন, এটি শুধুমাত্র অনিয়ম নয় বরং ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ (malafide intention) ষড়যন্ত্রের অংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে একই আদালতে দেওয়ানি ৩২৯/২০২৫ নম্বরের মামলা দায়ের করেন এডভোকেট ফেরদৌসি আরা লুসি। মামলায় অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম খান, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মিনহাজউদ্দিনসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০ জুলাই নিয়োগপ্রাপ্ত সাতজনকে বিনা নোটিশে ২৪ জুলাই বরখাস্ত করা হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম খান বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কারিগরি ত্রুটি ছিল। প্রভাষক পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি, তাই সাতজনকে নিয়োগ দিলেও নিয়ম না মানায় তা বাতিল করা হয়।”
তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল।

