Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম থেকে অনুপযোগী ৮০ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার, তিনজনকে বদলি

আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর প্রতিনিধি (রাজশাহী) 
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর প্রতিনিধি (রাজশাহী) 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে আবারও সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাওয়ার অনুপযোগী নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) খাদ্য গুদাম থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ওই গুদাম থেকে মোট ৮০ মেট্রিক টন অনুপযোগী চাল উদ্ধার করা হলো।

নিম্নমানের চাল উদ্ধারের ঘটনায় ইতোমধ্যে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ তিনজনকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপকারভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিকভাবে দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। এ সময় তিনি লালচে রঙের তামড়ি চাল দেখতে পান, যা মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী। এতে ভিডাব্লিউবি, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চালের মিশ্রণের প্রমাণ মেলে।

তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও গুদামের সকল কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গোপনে ১৩২ বস্তা নিম্নমানের চাল গুদাম থেকে সরিয়ে নিরাপত্তা প্রহরী শাহজাহানের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে ইউএনও চালগুলো উদ্ধার করেন এবং রফিকুল ইসলামকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে তলব করেন।

রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি চালগুলো অন্যত্র সরিয়ে রেখেছিলেন। এ সংক্রান্ত স্বীকারোক্তির অডিও, ভিডিও ও চালের নমুনা সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে গরিব ও অসহায় উপকারভোগীরা উন্নতমানের চাল পাচ্ছেন বলে জানান।
দেলুয়াবাড়ী গ্রামের হাওয়া বেগম বলেন,“আগে ৩০ কেজি করে যে চাল পেতাম, তা খুবই নিম্নমানের ছিল। ইউএনও স্যার খারাপ চাল ধরার পর থেকে এখন ভালো চাল পাচ্ছি।”

টিসিবি কার্ডধারী শরিফুল ইসলাম বলেন,
“আগে টিসিবির চাল খাওয়ার অনুপযোগী ছিল, গরু-হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতাম। এখন যে চাল পাই, তা অনেক ভালো। ইউএনও স্যারের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই।”

এ পর্যন্ত খাদ্য গুদামে ৮০ মেট্রিক টন নিম্নমানের চাল শনাক্ত করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে সমপরিমাণ উন্নতমানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে এবং স্থগিত কার্যক্রম ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে।

তদন্তে খাদ্য মজুদের অনিয়ম এবং নিম্নমানের চালের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রফিকুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সংযুক্ত মূলদফতরে বদলি করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী শাহজাহান আলম ও শ্রী বাবুল কুমারকে বগুড়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

খাদ্য পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমাকে শোকজ করা হয়েছিল, আমি তার জবাব দিয়েছি। বদলি করা হয়েছে। এই চালগুলো অন্য গুদাম থেকে এসেছে, আমি কোনো অপরাধ করিনি।”

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইয়াসিন আলী বলেন,
“নিম্নমানের চালের দায় সম্পূর্ণ রফিকুল ইসলামের। তার ব্যর্থতায় এই চাল গুদামে ঢুকেছে। আমরা তা শনাক্ত করে প্রতিস্থাপন করেছি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দিয়েছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন,
“২৬ আগস্ট আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে আমি চাল জব্দ করি। তদন্ত কমিটি এর সত্যতা পেয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৮০ মেট্রিক টন নিম্নমানের চাল উদ্ধার করা হয়েছে, যার সরকারি মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।