জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক কলেজ অধ্যক্ষ ও তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক অপদস্ত হয়েছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দরগাহপুর এসকেআরএইচ কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল লিখিত বক্তব্যে জানান, বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। এই অর্থ গ্রহণ করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সভাপতি ডা. এস এম মোখলেছুর রহমান।
গৌরপদ মন্ডল জানান, ডা. মোখলেছুর রহমান তাকে বলেন— পদে নিয়োগ পেতে হলে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে এবং ইন্টারভিউ বোর্ডসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হবে। এই বিশ্বাসে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর, তিনি সাতক্ষীরায় ডা. মোখলেছুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে স্ত্রীর হাত দিয়ে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেন। এ সময় বর্তমান সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শিহাব উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। গৌরপদ মন্ডলের দাবি, টাকা দেওয়ার সময়ের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র তার কাছে রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়— ডা. মোখলেছুর রহমান ও শিহাব উদ্দীনের যোগসাজশে বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যক্ষসহ ৭টি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে প্রায় ৭০-৭২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল জানান, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তিনি সাংবাদিক আহমদ আলী বাচাকে সঙ্গে নিয়ে শিহাব উদ্দীনের গ্রামের বাড়িতে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে যান। সেখানে শিহাব উদ্দীন তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে তিনি স্থানীয় মামুনসহ একদল লোক ডেকে এনে তাদের মোবাইল ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে ছিল চাকু, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র। কোনোভাবে প্রাণ নিয়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে আশাশুনি ফিরে আসেন।
সাংবাদিক আহমদ আলী বাচা বলেন, “আমি কেবল সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে মারধর, হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে কোনোভাবে জীবন বাঁচিয়ে ফিরে এসেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ গৌরপদ মন্ডল ও সাংবাদিক আহমদ আলী বাচা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

