রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৪ (তেরখাদা, দিঘলিয়া, রূপসা) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক ধর্মীয় সম্প্রীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) তেরখাদা উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন—এই অঞ্চলে একসাথে ঢোল বাজবে, আবার একইসাথে আজানও হবে; এটাই হোক খুলনা-৪ এর পরিচয়।
তিনি বলেন, তেরখাদা তথা পুরো খুলনা-৪ আসনে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন কোনো বাধা ছাড়া, নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে। দুর্গাপূজার সময় যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সে লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন তিনি। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় টাস্কফোর্স গঠন করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান পারভেজ মল্লিক।
তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাবে আমরা একে অপরের পরিপূরক। আলাদা ধর্ম পালন করলেও আমাদের উৎসব-আনন্দ, দুঃখ-সুখ—সবকিছুই মিলেমিশে একসাথে ভাগ করে নিতে হবে। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, তখনই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদে ছিলেন। কাজেই বিএনপি কখনোই কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরোধী নয়।
সভায় বক্তারা বলেন, তেরখাদায় হিন্দু-মুসলমান বরাবরই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভাজনের চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষ কখনো বিভ্রান্ত হয়নি। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অপপ্রচার ও ট্যাগিংয়ের বাইরে এসে ধর্মীয় উৎসব যেন উৎসবই থাকে, কোনো রাজনীতি না জড়ায়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন, তেরখাদা থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মোস্তাক আহমেদ।
পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন—১ নম্বর আজগড়া ইউনিয়নের সভাপতি বিপুল চন্দ্র মল্লিক, ২ নম্বর বারাসাত ইউনিয়নের সভাপতি পার্থ বরন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুবাস বাওয়ালী, ৩ নম্বর ছাগলাদাহ ইউনিয়নের সভাপতি সমীর ঢালী, ৪ নম্বর সাচিয়াদহ ইউনিয়নের সভাপতি সন্তোষ বিশ্বাস, ৫ নম্বর তেরখাদা ইউনিয়নের সভাপতি প্রভাস সাহা, ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের সভাপতি দিলিপ মল্লিক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাবু সুনিল সাহা, বাবু অসিম সাহা, বাবু প্রভাস সাহা এবং শ্রীমতি পাখি রানি বিশ্বাসসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

