নিজস্ব সংবাদদাতা, কচুয়া (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের কচুয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এবছর ৪৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, প্রতিমা গড়ার কাজে শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসব। দিনগুলো যথাক্রমে—
২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী,
২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী,
৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী,
১ অক্টোবর মহানবমী, এবং
২ অক্টোবর বিজয়া দশমী।
এবার দেবী গজে আগমন করবেন এবং দোলায় গমন করবেন, যা হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
আজ শুভ মহালয়া, যার মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছে দেবীপক্ষের। পূজার ক্ষণ গননার এই দিনে প্রতিটি মন্দিরে চলছে সাজসজ্জার ধুম। কাদা-মাটি ও রঙ-তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমা গড়ায় ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা।
প্রতিমা শিল্পী বিধান চন্দ্র পাল জানান, “এবার অনেকগুলো মণ্ডপে প্রতিমার কাজ করছি। রঙের কাজও শুরু হয়ে গেছে কিছু জায়গায়। পুরোপুরি শেষ হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কচুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নিরাময় ইন্দু হালদার বলেন, “আমরা হিন্দু নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করছি। আশা করছি, এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গা উৎসব উদযাপিত হবে।”
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কচুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক উজ্জ্বল কুমার দাস বলেন, “বিগত সময়ের চেয়ে এবার সারাদেশে পূজার সংখ্যা বেড়েছে। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আনন্দের। তবে কিছু অশুভ শক্তি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে, তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ বলেন, “আমরা প্রতিটি মন্দিরের খোঁজখবর রাখছি। বিএনপির পক্ষ থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে আছি। আমরা বিশ্বাস করি—‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আশা করছি, এবছর আরও শান্তিপূর্ণভাবে সবাই পূজা উদযাপন করবেন।”
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলী হাসান বলেন, “আগামী সোমবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে পূজা আয়োজকদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি মন্দিরের সার্বিক খোঁজখবর রাখছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সারাদেশে মোট ৩৩,৩৫৫টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে কচুয়া উপজেলার ৪৩টি মণ্ডপও রয়েছে।

