মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে ঋণের চাপ ও মানসিক হতাশা সইতে না পেরে ফিরোজ হোসেন (৩৫) নামে এক প্রবাসফেরত যুবক আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফিরোজ হোসেন ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে সহায়-সম্বল বিক্রি ও ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ফিরোজ। কিন্তু দালালের প্রতারণা ও আইনি জটিলতায় পড়ে মাত্র তিন মাসের মাথায় খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন। এতে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন এবং পাওনাদারদের চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মনিরামপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী জানান, ফিরোজ আগে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। পরে নিজের একটি গাড়ি কিনলেও বিদেশ যাওয়ার জন্য সেটি বিক্রি করে দেন এবং উচ্চ সুদে ঋণ নেন। দেশে ফেরার পর আবার ভাড়ায় গাড়ি চালানো শুরু করলেও প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, যা তার পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
রোববার বিকেলে বাড়ি ফিরে ফিরোজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তিনি ইন্টারনেট সংযোগের তার দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
পরে তাকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আলেক উদ্দিন জানান, ফিরোজকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
তবে মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বলেন, নিহতের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

