যশোর প্রতিনিধি
যশোরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ বাড়লেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। ‘বিছা পোকা’ ও ‘আঁচা পোকা’র আক্রমণে পাটের চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তীব্র গরমের মধ্যেও কীটনাশক নিয়ে মাঠে ছুটছেন চাষিরা, তবু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না পোকামাকড়ের উপদ্রব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোরে ২৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কেশবপুরে ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, শার্শায় ৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর, মণিরামপুরে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর, চৌগাছায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর, সদরে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর এবং অভয়নগরে ৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
গত কয়েক বছরের তুলনায় আবাদ প্রায় সমান থাকলেও এবার শুরু থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গোপালপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আফজাল হোসেন ভরদুপুরে পাটক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। তিনি বলেন, “পাটের কচি ডগা পোকা খেয়ে ফেললে গাছ ঠিকমতো বাড়ে না। এতে আঁশের মানও খারাপ হয়।”
একই এলাকার কৃষক হোসেন আলী জানান, আগে এমন পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। এ বছর অতিরিক্ত খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে, তবুও পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।
মণিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের কৃষক আলী আকবার বলেন, “প্রচণ্ড গরমে পাটের বৃদ্ধি কম হয়েছে। এখন আবার পোকা লেগেছে। অন্য বছর বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ ফলন পেলেও এবার ৬-৮ মণের বেশি হবে না।”
কৃষক হাসান খানও একই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত তাপদাহে পাটের গাছ ছোট হয়ে গেছে, তার ওপর পোকার আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পাটের জন্য কিছুটা উপকারী হলেও জমিতে আগাছার বিস্তার বেড়েছে। ফলে কৃষকদের বাড়তি শ্রম দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। কেশবপুরের রঘুরামপুর গ্রামের কৃষক মুহিবুর রহমান জানান, “আগাছা পরিষ্কার না করলে পাট বড় হতে পারে না। তাই শ্রমিক নিয়ে কাজ করছি, এরপর কীটনাশক স্প্রে করবো।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “আগাম বৃষ্টির কারণে পাটের বৃদ্ধি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময় গাছ নরম থাকে, তাই পোকার আক্রমণ বেশি হয়। কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, ভালো ফলনের আশা থাকলেও পোকার আক্রমণ আর আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে শঙ্কা কাটছে না যশোরের পাটচাষিদের মধ্যে।

