খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়িতে টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের কাটা ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটানা সাত দিনের বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে মাঠে কাটা ধান ভিজে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে, পাশাপাশি ধান শুকাতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ থেকে কেটে আনা ধান ঠিকভাবে শুকানোর সুযোগ না থাকায় অনেক স্থানে ধানের টাল, ঝাক ও গাদা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার মাঠ, গ্রাম-গঞ্জের উঁচু জায়গা এবং সরকারি সড়কের ওপর ভিজে যাওয়া ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে কৃষকদের। তারা বাধ্য হয়ে এসব স্থানে ধান ও খড় শুকাচ্ছেন।
নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক আহসানুল হক ও মোফাজ্জল মিয়া জানান, তারা প্রত্যেকে প্রায় দুই একর করে জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হলেও বাকি ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং কাটা ধানও চারা গজিয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, “আমরা খুবই কষ্টে আছি, এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ও কৃষক নেতারা জানান, এ বছর খালিয়াজুড়ি উপজেলায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের খাদ্য সহায়তার দাবি জানান এবং কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুড়ির ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ৮৯টি হাওরে প্রায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ হাজার ৩৩৬ হেক্টর ধান কাটা হয়েছে, তবে অবশিষ্ট ধানের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কাটা ধানের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ ধান চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে রোদ পাওয়া গেলে দ্রুত শুকানোর মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ধান শুকাতে পারছেন না, এটি খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি। ভবিষ্যতে কৃষকদের সুবিধার জন্য ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

