আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আশাশুনির রেমিট্যান্স যোদ্ধা লেবাননে নিহত নাহিদুল ইসলামের বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১টার দিকে তিনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের কাদাকাটি গ্রামে নাহিদুলের বাড়িতে যান। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামসহ তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাদাকাটি গ্রামের দরিদ্র পরিবার আঃ কাদের সরদারের ছেলে নাহিদুল ইসলাম আড়াই মাস আগে সংসারের অভাব ঘোচাতে জমি বিক্রি করে লেবাননে যান। সেখানে কাজের শুরুতে একবার পরিবারের কাছে কিছু অর্থ পাঠাতে সক্ষম হন তিনি। তবে গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ এলাকার জেনদিনে আবাসস্থলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফছার আলীর ছেলে শফিকুলও প্রাণ হারান। এখনো তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
নিহত নাহিদুলের বাবা আব্দুল কাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। নাহিদ ছিল সবার বড়। সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে যেতে চেয়েছিল। বাধা দিলেও শেষে ধারদেনা করে তাকে পাঠাই। কিন্তু সে আর ফিরে আসবে না, এটা কখনো ভাবিনি।”
নাহিদুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “নিহত নাহিদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

