রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় হরিণের মাংস জব্দকে কেন্দ্র করে ঘুষ গ্রহণ ও জব্দকৃত মাংস ভাগাভাগির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদেরকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মো. মাইনুল ইসলাম ও মো. মুছাব্বির হোসেন। তারা বাংলাদেশ পুলিশ-এর অধীনে ডুমুরিয়া থানার শোভনা পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে সুফল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হরিণের মাংস জব্দ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জব্দের পর মামলার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয় এবং জব্দকৃত মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন সংশ্লিষ্ট দুই কনস্টেবল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়।
ডুমুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আছের আলি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারের কাছে জানানো হয়।
তিনি বলেন, “হরিণের মাংস কোথা থেকে এসেছে, কী পরিমাণ ছিল এবং পুরো ঘটনার পেছনের বিস্তারিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

