তাপস কুমার মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার ভোলা
ভোলার মনপুরায় প্রেমিককে বেঁধে রেখে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে।
তবে এই ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি,২০২৬) রাতে উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়ীবাঁধ এলাকা এই অমানবিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পরে খবরপেয়ে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টায় পুলিশ গিয়ে প্রেমিক ও প্রেমিকা ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে যায়।
পরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবীর অভিযোগে মামলা করে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বলে জানান ওসি মোঃ ফরিদ উদ্দিন। তিনি আরও জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে ভোলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার ৬ আসামীরা মধ্যে প্রধান দুই আসামী স্থানীয় নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন নাম জানা গেলেও অপর ৪ আসামীর নাম তদন্তের স্বার্থে অপরাগতা প্রকাশ করেন পুলিশ। তবে প্রধান দুই আসামীর দুইজনের বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে।
জানা যায়, মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল এর ছেলে সজিব এর সাথে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার তরুণীর সাথে প্রেমের স¤র্পক। গত দুইদিন আগে (মঙ্গলবার) প্রেমিক সজিব প্রেমিকা তরুণীকে নিয়ে বিয়ে করতে মনপুরায় দাদা বাড়ি আসে। পরে বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আত্মীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করছিলেন। এর মধ্যে স্থানীয় দুই নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন ঘটনা জানতে পেরে প্রথমে প্রেমিক যুগলের কাছে দুই লক্ষ টাকা পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। ধার্যকৃত চাঁদা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় দুই নেতা ইদ্রিস মাঝির সহযোগিতায় প্রেমিক যুগলকে ঢাকা থেকে আসা হাতিয়াগামী লঞ্চে ওঠিয়ে দিবে বলে ঘরে থেকে বের করে আনে। একপর্যায়ে তালতলা নতুন বেড়ীর কাছে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সজিবকে বেঁধে প্রেমিকা তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে।
পরে সেখান থেকে প্রেমিক সজিব পালিয়ে এসে ডাক-চিৎকার দিলে তার স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ওই তরুণীকে খুজঁতে বেড়ীবাঁধ এলাকা যায়। পরে ভোররাতে ওই দুই নেতা প্রেমিকা তরুণীকে হোন্ডা করে প্রেমিকা সজিবের বাড়িতে দিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ এসে প্রেমিকা ও প্রেমিকা থানায় নিয়ে যায়।
প্রেমিক সজিব জানান, চট্রগ্রামে বাবার সাথে সজিব কাজ করে। মুঠোফোনে সজিবের সাথে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বাসিন্দা তরুণীর প্রেমের স¤র্পক গত ৭ বছর ধরে। তবে প্রেমিকা তরুণী নারায়ণগঞ্জে থাকেন। পরে তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে মঙ্গলবার মনপুরায় আসে। পরে বৃহ¯পতিবার রাতে স্থানীয় দুই নেতা প্রথেম চাঁদা দাবী করে পরে লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার নাম করে তাকে বেঁধে তার প্রেমিকার সাথে এই অমানবিক ঘটনা ঘটান। এই ঘটনার বিচার দাবী করেন প্রেমিক সজিব। একই সঙ্গে ওই তরুণী ঘটনার বিস্তারিত বর্ননা করে বিচার দাবী করেন।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, এই ধর্ষণের ঘটনা অভিযোগে ছয় জন সহ আরও অজ্ঞাতামা দুই তিন জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করছে। প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।

