দৌলতপুর ( কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
সারা দেশেই জকে বসেছে তীব্র শীত। তীব্র শীতের কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জনজীবনও বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সর্বত্র। সেইসাথে বইছে হিমেল হাওয়া। তীব্র শীতের কারনে হাসপাতালগুলিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
পাশাপাশি তীব্র শীত ও ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমুল, অসহায় ও দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ। দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ^রদীতে হওয়ার কারনে এর প্রভাব পড়ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবার কোনদিন দিনভর ঘনকুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় জনজীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তীব্র শীতের কারণে সকালে ঘরের বাইরে বের হতে না পারায় নি¤œ আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। ফলে কমেছে তাদের দিনের আয়-রোজগার।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারনে রবি মৌসুমের ফসল, বোরো ধানের বীজতলা, আলু ও সরিষা ক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নজরুল ইসলাম নামে এক ভ্যানচালক জানান, তীব্র শীত ও ঠান্ডায় ভ্যানে কেউ উঠতে চাইনা। এরআগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো, এখন ১০০ টাকা আয় করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সফিকুল নামে একজন দিনমজুর জানান, ঠান্ডার কারনে কেউ কাজে ডাকেনা। দুদিন ধরে কোন কাজ কাম পাইনি। সংসার চালানো দায় হয়েছে পড়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, শীত জকে বসায় শিশু সহ বয়স্করাও হাসপাতালে আসছে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে।
বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ঠান্ডা পরিহার করে বৃদ্ধ ও শিশুদের গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি আরো জানান, দৌলতপুরের দুই পাশে পাবনার ঈশ^রদী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা যেখানে সর্বদা দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়ে থাকে। এরফলে দৌলতপুরে তাপমাত্রা নিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করায় এখানকার মানুষ তীব্র শীত ও ঠান্ডা অনুভব করে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ জানিয়েছেন এধরণের আবহাওয়া আরো কয়েকদিন থাকবে।
এদিকে তীব্র শীতে ছিন্নমুল ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো বিতরণ করা হবে।

