আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। এ উপলক্ষে রাজশাহীর দুর্গাপুরসহ আশপাশের এলাকায় জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরু ও খাসির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় কিছু পশুর দাম তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৩ হাজার ৪২৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার ২৩৪টি খামার রয়েছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার নিজ উদ্যোগেও কোরবানির পশু লালন-পালন করেছেন। তবে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার পুরান তাহিরপুর এলাকার খামারি আসাদ আলী বলেন, “আমার গোয়ালে পাঁচটি ষাঁড় রয়েছে। ভারতীয় গরু আমদানি না হলে দেশীয় গরুর ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
বুধবার (২৭ মে) দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠের পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই জমজমাট কেনাবেচা চলছে। ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি মাঝারি আকারের গরু ও খাসির প্রতি।
হাটে গরু কিনতে আসা আব্দুস সামাদ বলেন, “গত বছরের তুলনায় মাঝারি গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।”
অন্যদিকে খাসি কিনতে আসা আশরাফ আলী জানান, “এবার খাসির দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। ঈদের আর বেশি দেরি নেই, তাই আজই কিনে নিলাম।”
গবাদিপশুর খাদ্য ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রতি মাসেই পশুখাদ্যের দাম বাড়ছে। ভুট্টার আটা, খুদ, ভুসি ও খৈলসহ সব ধরনের খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও বেড়েছে।”
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পশুরহাট তাহেরপুর হাটেও এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। সোমবার হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যাপারীরা।
তাহেরপুর পশুরহাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বাগাতি বলেন, “সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে। প্রতিটি হাটেই এখন প্রচুর পশু কেনাবেচা হচ্ছে।”
দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “হাটে রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বিক্রি ঠেকাতে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় গরু বাজারে না এলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, “কোরবানির পশুরহাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

