নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) ভোররাতে জেলা শহরের জজ আদালত সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভের মাঝখানে নির্মিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে। তবে দিনভর বিষয়টি কারও নজরে না আসায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসেনি।
পরে শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডিওতে কয়েকজন তরুণকে স্মৃতি স্তম্ভ ও এর আশপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। এতে স্মৃতি স্তম্ভের নিচের অংশের কিছু অংশ পুড়ে যায় এবং কালো হয়ে যায়।
ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, “স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত।” এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে কারা এবং কখন আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে আগে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। যারা এ কাজ করেছে, তারাই একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আগুনের কারণে স্মৃতি স্তম্ভের কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেজ ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

