খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদাহ বাজারে নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে দোকান, গোডাউন ও একটি সামাজিক সংগঠনের ভবনের অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাচিয়াদাহ–চুনখোলা সংযোগ সেতুর কাজ চলমান থাকলেও হঠাৎ করেই কোনো লিখিত নোটিশ বা প্রশাসনিক উপস্থিতি ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে কয়েকটি দোকানঘর, পুরোনো গোডাউন ও একটি সামাজিক সংগঠনের ভবনের অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিএম রকিব উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দশক ধরে তারা এসব স্থাপনা ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ বা উচ্ছেদ হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপর ভুক্তভোগী বিএম সমির উদ্দিন জানান, তার বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৭০–৭৫ বছরের পুরোনো একটি পাটের গোডাউনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘সুজা মৈত্রী যুব সংঘ’ দাবি করেছে, তাদের দেড়তলা ভবনের সামনের অংশও ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অথচ এ বিষয়ে আগে কোনো নোটিশ বা আলোচনা হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আরও অভিযোগ উঠেছে যে, কয়েকদিন আগে কিছু ব্যক্তি দোকান সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে বুলডোজার এনে সেই হুমকির বাস্তবায়ন করা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
তেরখাদা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা জানান, এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকল্পের আওতাধীন কাজ। তবে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কার নির্দেশে এবং কোন কর্তৃত্বে দোকান, গোডাউন ও সামাজিক সংগঠনের স্থাপনা ভাঙা হলো।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ নোটিশ, আইনগত প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা না হলে জনমনে অসন্তোষ বাড়বে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

