নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ফরিদপুরে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ৮ দিনে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আজ (শুক্রবার) দাম সামান্য কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টেপাখোলা বাজার, হাজী শরিয়তউল্লাহ বাজার, সালথা, বোয়ালমারী ও নগরকান্দা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০-২৫ টাকা বেশি।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ফরিদপুর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। চলতি মৌসুমে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ থেকে ৬ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও এখন সেই পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড়গুণ বেশি দামে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলার চাষিরা বর্তমানে পাট জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এছাড়া বর্তমানে বিদেশি পেঁয়াজের আমদানি না থাকায় দেশীয় পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে, ফলে দামও বেড়েছে।
ফরিদপুরের কাঁচা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা কয়েকজন ভোক্তা বলেন, “হঠাৎ করে এত দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ করা। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এত দামে পেঁয়াজ কেনা খুবই কষ্টকর।”
তারা আরও বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।

