শাহরিয়ার হাসান উল্লাস, জামালপুর
দেড়শ বছরের পুরাতন প্রথম শ্রেণীর জামালপুর পৌরসভা। গত ১৭ বছরে এই শহর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ারে ভাসলেও লাঙলজোড়া এলাকার সড়কগুলোতে লাগেনি এর ছোয়া।
দীর্ঘ তিন বছর যাবত বেহাল দশায় রয়েছে লাঙলজোড়া থেকে গেটপার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক। শহরের যোগাযোগ স্থাপন করায় প্রতিদিন কয়েক এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে। এছাড়া শহর থেকে গ্রামে লাঙ্গল জোড়, আলীহরপুর, রামপুর,শীতলকর্শা, মাছিমপুর ও হরিপুরে সরাসরি চলাচল করা যায়।
সরজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাটি ব্যবহার করার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এই রাস্তাটি যেন এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার। গত তিন বছর ধরে এই পিচ উঠে সম্পূর্ণ রাস্তায় কয়েকটি গর্ত হয়েছে। এখানে মাঝে মধ্যেই ঘটে নানা দূর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানায়- চলতি বছর বৃষ্টি শুরুর বেশ আগেই রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করে। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় শত শত যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। কাদা-পানিতে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়, বইখাতা নষ্টসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হয়। আর যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় অনেক গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন কলেজ পড়ুয়া মাহবা ফার্সী রাতুল। তিনি বলেন-আমাদের চলাচল করার একমাত্র রাস্তায় এটি। কিন্তু প্রায় তিন বছর যাবত এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করার মত পরিবেশ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তায় হাটু পরিমান পানি জমে থাকে। রাস্তায় পানি জমে থাকলে কিভাবে এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। ভয়ে চলাচল করে না যদি বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তাই সরকারকে বলব দ্রুত এই রাস্তাটি যাতে মেরামত করে দেয়।
এই বিষয়ে জানতে জামালপুর পৌরসভার পৌর নির্বহী কমকর্তা হাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান তালুকদার মোবাইল ফোনে বলেন- সড়কটি নির্মানের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারে হাতে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। লাঘব হবে স্থানীয়দের দূর্ভোগ।

