কালাই, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি, পাশাপাশি তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী হাইব্রিড জাতের এই লাউ সারা বছর চাষযোগ্য হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় লাউ চাষি মাদব, পল্লাত ও আমিনুল জানান, “লাউ আগে শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে সারা বছরই লাউ চাষ করা যাচ্ছে। আমাদের মাঠে সারি সারি গাছে ঝুলছে অগণিত লাউ।”
তারা আরও জানান, চারা লাগানোর মাত্র ৫০-৫৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফল আসা শুরু করে। প্রতিটি লাউয়ের গড় ওজন ২ থেকে ৩ কেজি, এবং একেকটি গাছ টানা তিন মাস পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম।
কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে।
আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, “আমি এবার ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করছি। লাউ চাষে খরচ কম, আবার বাজারে চাহিদা বেশি। অনেকেই সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি জানান, লাউ উৎপাদন শেষ হলে টমেটো ও শিম চাষ করবেন।
আরেক চাষি সেলিম বলেন, “অল্প জমি, অল্প শ্রম ও সীমিত পুঁজি নিয়ে লাউ চাষ করা সম্ভব। বাজারে চাহিদা থাকায় সপ্তাহে দু’দিন ক্ষেত থেকে লাউ কেটে বিক্রি করি। এতে ভালো আয় হচ্ছে।”
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে চাষিদের সহায়তা করা হচ্ছে। ধানের তুলনায় লাউ চাষে খরচ কম হওয়ায় চাষিরা দিনদিন এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।”

