নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার নুনুজ কলিমিয়া আলিম মাদ্রাসায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) কাজল রেখাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ মে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের আলোকে রোববার ডাকযোগে তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মাদ্রাসার সাধারণ তহবিল থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন ও রেজুলেশন ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, উত্তোলিত অর্থের কোনো হিসাব ক্যাশ বইয়ে লিপিবদ্ধ নেই এবং ব্যয়ের বিপরীতে কোনো ভাউচারও পাওয়া যায়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক কাজল রেখা যৌথভাবে হিসাব পরিচালনা করতেন। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কাজল রেখা ১২৫১৯৩৫ ও ৯২৫১৯৩৬ নম্বরের দুটি চেকের মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, যার কোনো হিসাব ক্যাশ বইয়ে নেই।
এ ঘটনায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা পত্র পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতির কাছে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক কাজল রেখা বলেন, “অধ্যক্ষ আমাকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করতে বলতেন। আমি তাই করতাম। তবে ওই দুটি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, “গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ও শিক্ষক কাজল রেখাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি পলাশ হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বই যাচাই-বাছাই করে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

