Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

কয়রা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কয়রা প্রতিনিধি

সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জানায়, সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সর্বশেষ নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মিমি পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জার এবং ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন আত্মসমর্পণকারীরা।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং একজন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের অন্য সক্রিয় বনদস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।