নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে দুস্থ্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে ১০ কেজি চাল বিতরনের দিনে ৬ বস্তা চাল গায়েব হয়ে যায়।
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে ওই দিনই ১৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ইউনিয়ন পরিষদে আসলে ৬ বস্তা চাল কম পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়নে ৪৬২ জন অসহায় ও দুস্থ্য মানুষদের মাঝে ঈদ উপহারের ১০ কেজি করে চাল বিতরনের প্রথম দিনে ৩৮৪ জনকে চাল দেওয়া হয়েছে বাকি ৭৮ জনের বিপরীতে ২৬ বস্তা চাল স্টকে রয়েছে। ওই চালের ষ্টক ও মাষ্টারোল দেখতে চাইলে চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম ও ইউপি সচিব তৌফিকুর ইলাহি দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য গোলাম কবির তপন চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচারন করেন।
অতঃপর গোডাউন চেক করে ২৬ বস্তাই পাওয়া যায়। এদিকে পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা জানান, ৬ বস্তা চাল চুরী করে ভিজিডির চাল দিয়ে গোঁজামিলে সাংবাদিকদের দেখানো হয়েছে। এছাড়া ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টিও জানান উপকার ভোগীরা।
এদিকে পরের দিন ২৯ এপ্রিল বাকী ৭৮ জনকে চাল দেওয়া কথা থাকলেও দেওয়া হয় ২০ এপ্রিল। এ সময় সচিবের রুম থেকে খোয়া যাওয়া ৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পহরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলামের কাছে ৬ বস্তা চাল গায়েব ও ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এ ঘটনাটি মঙ্গলবার সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনু সাহাকে অবহিত করলে তিনি বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এসে তদন্ত করবেন বলে জানান।
এ দিকে প্রথম দিনেই বিষয়টি ইউএনও কালিয়াকে জানানো হলে আজ বৃহস্পতিবার আসার কথা শুনে ২ দিন পর সকাল বেলা সেই ৬ বস্তা চাল সচিবের গোপন রুম থেকে গোডাউনে নেয়ার সময় সাংবাদিকের ক্যামেরায় ভিডিও ধারন হয়।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনু সাহা বলেন, যাচাইপূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

