Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ আগস্ট ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গাপুরে বন্যায় পান বরজ তলিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

Link Copied!

আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি


রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির পান বরজ। এতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তোলা ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক ও শ্রমিক। টিকে থাকতে কেউ পানি সেঁচে, কেউ বাঁধ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালালেও অধিকাংশ বরজই ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে চলে গেছে।

উপজেলার কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের রাতুগ্রাম বিলে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ পান বরজ প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপে বরজগুলোতে জমে থাকা পান পচে গেছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই বরজগুলোই ছিল তাদের একমাত্র জীবিকা।

পানচাষি মনসুর রহমান বলেন, “আমার দুটি পান বরজের একটি সম্পূর্ণ ডুবে গেছে, আরেকটি যেকোনো সময় ডুবে যেতে পারে। পানি সেঁচে রক্ষা করতে চেষ্টা করছি, কিন্তু এই ক্ষতির কীভাবে সামাল দেব বুঝতে পারছি না। সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।”

একইভাবে কৃষক মাহবুব জানান, “প্রায় ১ বিঘা জমির পান বরজ সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কাজ নেই, ধার-দেনায় দিন পার করছি।”

রাতুগ্রামের আরেক কৃষক আবুল কালাম বলেন, “পুরো পরিবার পান বরজের ওপর নির্ভর করে চলে। একটির সব পাতা পঁচে গেছে, আরেকটি এখনো আংশিকভাবে টিকে আছে, কিন্তু দু’একদিনের মধ্যেই ডুবে যাবে। বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছি। ধানও ঘরে তুলতে পারিনি, গবাদিপশুকে খড়ের বদলে লতাপাতা খাওয়াচ্ছি।”

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে পান বরজ রয়েছে। এসব বরজ থেকে বছরে ২১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয় এবং প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক এসব বরজে কাজ করে থাকেন। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে চাষি ও শ্রমিক—দু’পক্ষই পড়েছে গভীর সঙ্কটে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে বারনই নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো নদীর পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তবে আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।”

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবণী বলেন, “অতিবৃষ্টি ও নদীর পানিতে জলাবদ্ধতার কারণে কিছু বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছি। পানি নামলে কৃষকরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছি।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।