মোছা: কাবা কাকলি, কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল কলেজের অনার্স ২য় ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিলেট ভ্রমণে অংশগ্রহণ করেন। এ সফরে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করার পাশাপাশি আনন্দঘন সময় কাটান।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় বিভাগের প্রধান হাসিনা আক্তার সফর সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন এবং শিক্ষার্থীদের করণীয় তুলে ধরেন। রাত ১২টায় শিক্ষার্থীরা যাত্রা শুরু করে। সকাল ৭টায় সিলেটে পৌঁছে হোটেলে ওঠার পর ফ্রেশ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়। এরপর সকালের নাস্তার জন্য যাওয়া হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্ট পানসি-তে।
প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা ঘুরে আসেন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও ভোলার সাদা পাথর থেকে। নৌকা ভ্রমণের সময় গান ও আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। সাদা পাথরে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলে, গোসল করে এবং সৌন্দর্য উপভোগ করে আনন্দঘন সময় কাটায়। রাতে হোটেলে ফিরে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে গান পরিবেশন করে মুহূর্তগুলো আরও আনন্দময় করে তোলে।
দ্বিতীয় দিনে সকালের নাস্তার পর যাত্রা শুরু হয় জাফলংয়ের উদ্দেশে। পথে শ্রীপুর চা-বাগানে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর সবাই জাফলং পৌঁছে দুপুরের খাবার শেষ করে ঘুরে আসে মায়াবী ঝর্ণা ও জিরো পয়েন্ট থেকে। মায়াবী ঝর্ণার সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে। সফরের শেষদিকে শাহ পরাণ মাজার পরিদর্শনের পর শিক্ষার্থীরা হোটেলে ফিরে প্রস্তুতি নেয় ঢাকার উদ্দেশে।
শিক্ষার্থী আশরাফ আবদুল্লাহ বলেন—
মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমাদের বহু প্রতীক্ষিত সফরটি সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি। আমাদেরকে নিয়ে এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।
একই সেশনের শিক্ষার্থী আলামিন বলেন—
আমরা তিন দিন একসঙ্গে কাটিয়ে অনেক আনন্দ করেছি। সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে উঠেছিলাম।
২২–২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মন্দিরা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন—সত্যিই সবটা এখনো স্বপ্ন মনে হচ্ছে। জীবনের সুন্দর মুহূর্ত হয়ে থাকবে সবার সাথে কাটানো এই সময়। হাসিনা ম্যাম, হোসনে আরা ম্যাম, শাহাদাত ভাইসহ আমাদের সিনিয়র ভাইয়া-আপু এবং বন্ধু-বান্ধবীদের অনেক ধন্যবাদ। সবাই মিলে না এলে হয়তো আমাদের যাওয়া হতো না। সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো সবাই সবার সাথে মিশে ছিল, একে অপরের খেয়াল রেখেছে। আমরা ছোটরা কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। আমরা অত্যন্ত খুশি, সবার সুস্থতা কামনা করছি।
শিক্ষাসফর সম্পর্কে বিভাগের প্রধান হাসিনা আক্তার বলেন—শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করা, প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবছর পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিল রেখে সফরের স্থান নির্বাচন করা হয়। এবছরও শিক্ষার্থীরা আনন্দ করার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছে।

